গোসলের ফরজ কয়টি

আজকের পোস্ট থেকে আমরা জানবো গোসলের ফরজ কয়টি এইটা সম্পর্কে। গোসল হল সম্পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিজের সমস্ত শরীর ধৌত করার একটি ইসলামিক পরিভাষা। কিছু ধর্মীয় আচার ও উপাসনার জন্য গোসলের প্রয়োজন হয়।

গোসলের ফরজ কয়টি

গোসলের ফরজ মোট তিনটি:

  • নিয়ত: গোসলের শুরুতে নিয়ত করা।
  • গোসল করা: সমস্ত শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভালোভাবে ধৌত করা।
  • মাথায় পানি ঢালা: তিনবার মাথায় পানি ঢালা।

এছাড়াও, গোসলের সময় অযুর মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করতে হয়।

নিয়ত:

গোসলের নিয়ত হল, “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গোসল করছি।”

গোসল করা:

গোসলের সময় সমস্ত শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভালোভাবে ধৌত করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে মাথা, মুখ, কাঁধ, হাত, পা, কান, নাক, এবং শরীরের অন্যান্য অংশ।

মাথায় পানি ঢালা:

গোসলের সময় মাথায় তিনবার পানি ঢালা হয়। প্রথমবার মাথার সামনের অংশে, দ্বিতীয়বার মাথার মাঝখানে, এবং তৃতীয়বার মাথার পিছনের অংশে পানি ঢালা হয়।

গোসলের ফরজ লঙ্ঘন করলে:

গোসলের ফরজ লঙ্ঘন করলে গোসল হবে না। ফরজ লঙ্ঘন হলে আবার গোসল করতে হবে।

গোসলের ফরজ পালন করার উপকারিতা:

গোসলের ফরজ পালন করলে শরীর পরিষ্কার হয় এবং পবিত্রতা অর্জন হয়। এছাড়াও, গোসলের ফরজ পালন করলে নামাজ, রোজা, হজ, এবং অন্যান্য ধর্মীয় ইবাদত আদায় করা সহজ হয়।

আরো পড়ুনঃ  মাশাআল্লাহ উত্তর কি হবে? মাশাআল্লাহ অর্থ কি?

গোসলের সুন্নত ছয়টি

গোসলের সুন্নত ছয়টি

গোসলের সুন্নত ছয়টি:

  1. গোসলের উদ্দেশ্য মনে করা

গোসলের সময় এটি মনে রাখা উচিত যে আমরা কেন গোসল করছি। আমরা পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করছি, এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।

  1. গোসলের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা

গোসলের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা সুন্নত। এটি আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর সাহায্য কামনার একটি প্রকাশ।

  1. প্রথমে ডান দিকে তিনবার কুলি করা

ডান দিকে তিনবার কুলি করা সুন্নত। এটি মুখের ভেতরে থাকা কোনও নাপাকী দূর করার জন্য করা হয়।

  1. ডান নাকের ভেতর পানি দেওয়া

ডান নাকের ভেতর পানি দেওয়া সুন্নত। এটি নাকের ভেতরে থাকা কোনও নাপাকী দূর করার জন্য করা হয়।

  1. পুরো শরীর ধৌত করা

পুরো শরীর ধৌত করা গোসলের একটি ফরজ। সুন্নত হলো, গোসলের সময় মাথা থেকে পা পর্যন্ত সব অংশে পানি পৌঁছে দেওয়া।

  1. গোসলের শেষে সাতবার পানি ঢালানো

গোসলের শেষে সাতবার পানি ঢালানো সুন্নত। এটি শরীরের সমস্ত অংশে পানি পৌঁছে দেওয়ার জন্য করা হয়।

গোসলের সুন্নত পালন করলে গোসল আরও পরিপূর্ণ হয় এবং বেশি নেকি অর্জন হয়।

এছাড়াও, গোসলের সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত:

  • গোসল করার সময় পুরো শরীরে পানি পৌঁছাতে হবে।
  • গোসলের সময় কোনও নাপাকী থাকলে তা দূর করতে হবে।
  • গোসলের সময় কোনও অপ্রয়োজনীয় কথা বলা যাবে না।

গোসলের ফরজ ও সুন্নত পালন করে আমরা আমাদের শরীর ও মনের পবিত্রতা অর্জন করতে পারি।

আরো পড়ুনঃ  সাহাবীদের নাম অর্থসহ ছেলেদের

গোসলের ফরজ হওয়ার কারণ

গোসলের ফরজ হওয়ার কারণ

গোসলের ফরজ কয়টি? এইটার উওর হলো তিনটি। গোসলের ফরজ হওয়ার কারণ হল:

  • ইস্তেঞ্জা বা মল-মূত্র ত্যাগ করা
  • শুক্রপাত বা স্বপ্নদোষ হওয়া
  • ঋতুস্রাব বা নেফাস বন্ধ হওয়া
  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা
  • মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু

এসকল কারণে গোসল ফরজ হয়ে থাকে।

ইস্তেঞ্জা বা মল-মূত্র ত্যাগ করা

ইস্তেঞ্জা বা মল-মূত্র ত্যাগের পর গোসল ফরজ হয়। এক্ষেত্রে পুরুষদের ক্ষেত্রে মূত্রথলি এবং মলদ্বার থেকে পানি বেরিয়ে গেলে গোসল ফরজ হয়। নারীদের ক্ষেত্রে যোনিপথ থেকে পানি বেরিয়ে গেলে গোসল ফরজ হয়।

শুক্রপাত বা স্বপ্নদোষ হওয়া

পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রপাত বা স্বপ্নদোষ হলে গোসল ফরজ হয়। শুক্রপাত হল পুরুষের যৌনাঙ্গ থেকে বীর্যপাত হওয়া। স্বপ্নদোষ হল ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত হওয়া।

ঋতুস্রাব বা নেফাস বন্ধ হওয়া

নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব বা নেফাস বন্ধ হলে গোসল ফরজ হয়। ঋতুস্রাব হল নারীদের মাসিকের রক্তপাত। নেফাস হল সন্তান প্রসব বা গর্ভপাতের পরের রক্তপাত।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা

অমুসলিম ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে গোসল ফরজ হয়। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর গোসল করে নতুন জীবন শুরু করা হয়।

মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু

মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু হলে গোসল করা ফরজ। মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিয়ে কবর দেওয়া হয়।

ফরজ গোসলের বিকল্প

পবিত্র পানি না থাকলে বা গোসল করার মতো সুযোগ না থাকলে তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায়। তায়াম্মুম হল বালি, মাটি বা ধূলা দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের একটি পন্থা।

আরো পড়ুনঃ  এশার নামাজ কয় রাকাত ও নিয়ত

গোসলের ফরজ দোয়া

গোসলের ফরজ দোয়া

গোসল শেষে নিম্নলিখিত দোয়া পড়া সুন্নত:

اَللّٰهُمَّ اَحْسَنْتَ خَلْقِيْ فَاَحْسِنْ خُلُقِيْ

আল্লাহুম্মা আহসানতা খালক্বি ফাই আহসিন খুলুকি

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার সৃষ্টি সুন্দর করেছ, সুতরাং আমার চরিত্রও সুন্দর করে দাও।

এছাড়াও, গোসল শেষে নিম্নলিখিত দোয়া পড়াও সুন্নত:

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ جَعَلَ الْمَاءَ طَهُوْرًا

আলহামদুলিল্লাহিল লাজি জা’আলাল মাআ-আ তাহূরা

অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পানিকে পবিত্র করেছেন।

ফরজ গোসলের নিয়ম

ফরজ গোসল হল এমন গোসল যা ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুসারে অবশ্যই করতে হয়। ফরজ গোসলের কারণগুলি হল:

  • সহবাস বা স্বপ্নদোষের কারণে বীর্যপাত হওয়া
  • মহিলাদের মাসিক বা স্রাব বন্ধ হওয়া
  • জন্মদান
  • ইসলাম ধর্মে প্রবেশ
  • মৃত্যুবরণকারীর লাশ স্পর্শ করা

ফরজ গোসলের নিয়ম হল:

  1. নিয়ত করা: গোসল করার আগে মনে মনে নিয়ত করতে হবে যে, আমি ফরজ গোসল করছি।
  2. শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভালোভাবে ধোয়া: গোসলের সময় মাথা, মুখ, দুই হাত, দুই পা, নাভির নিচের অংশ এবং শরীরের অন্যান্য অংশ ভালোভাবে ধোয়া জরুরি।
  3. মাথায় তিনবার পানি ঢালা: মাথায় তিনবার পানি ঢালা জরুরি।
  4. সমস্ত শরীরে পানি বুলানো: মাথায় পানি ঢালার পর সমস্ত শরীরে পানি বুলানো জরুরি।
  5. কপাল থেকে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত ভালোভাবে পানি বুলানো: কপাল থেকে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত ভালোভাবে পানি বুলানো জরুরি।

গোসলের ফরজ কয়টি ভিডিও

 উপসংহার

আমি আশা করছি আপনি এই পোস্টটি থেকে গোসলের ফরজ কয়টি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে গেছেন।

আরো পড়ুনঃ সাইয়েদুল ইস্তেগফার বাংলা উচ্চারণ সহ

Leave a Comment