মহাকর্ষ বল কাকে বলে

মহাকর্ষ বল কাকে বলে? মহাকর্ষ বল হলো মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বল। এই বলের কারণেই পৃথিবীর পৃষ্ঠের সকল বস্তু ভূকেন্দ্রের দিকে আকৃষ্ট হয়। মহাকর্ষ বলের প্রভাবেই উপরিস্থিত বা ঝুলন্ত বস্তু মুক্ত হলে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়। মহাকর্ষ বলের প্রভাবে ভরসম্পন্ন বস্তুসমূহে ওজন অনুভূত হয়। একটি বস্তুর ভর যত বেশি হয়, মহাকর্ষ বলের প্রভাবে তার ওজনও তত বেশি হয়।

মহাকর্ষ বলের গাণিতিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন বিজ্ঞানী নিউটন। নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুসারে, দুটি বস্তুর মধ্যকার মহাকর্ষ বল তাদের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং তাদের মধ্যকার দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।

মহাকর্ষ বল প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের একটি।

মহাকর্ষ বলের কিছু উদাহরণ হলো:

  • পৃথিবীর পৃষ্ঠে আমাদের ওজন মহাকর্ষ বলের কারণেই হয়।
  • চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে মহাকর্ষ বলের কারণে।
  • সূর্যের চারপাশে গ্রহগুলি ঘোরে মহাকর্ষ বলের কারণে।
  • কৃষ্ণবিবরের আকর্ষণ এতটাই শক্তিশালী যে আলোও তার কাছাকাছি আসতে পারে না।

মহাকর্ষ বলের প্রভাব কীভাবে কাজ করে তা এখনও সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায়নি। তবে, আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব অনুসারে, মহাকর্ষ বল স্থান-কালের বক্রতার কারণে সৃষ্টি হয়।

আরো পড়ুনঃ  ২০২৪ সালের অলিম্পিক গেমস কোথায় হবে

মহাকর্ষ বল কাকে বলে?

মহাকর্ষ বল কাকে বলে? মহাকর্ষ বলের পরিমাণ ক্রিয়াশীল বস্তু দুটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং বস্তুদ্বয়ের মধ্যকার দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ, দুটি বস্তুর ভর যত বেশি হবে, তাদের মধ্যকার মহাকর্ষ বল তত বেশি হবে। এবং বস্তুদ্বয়ের মধ্যকার দূরত্ব যত বেশি হবে, তাদের মধ্যকার মহাকর্ষ বল তত কম হবে।

মহাকর্ষ বল একটি মৌলিক বল, অর্থাৎ এটি অন্য কোন বল থেকে উৎপন্ন হয় না। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব অনুসারে, মহাকর্ষ বল হলো স্থান-কালের বক্রতার কারণে সৃষ্ট একটি বল।

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র কি?

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র কি

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র হলো মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যেকার আকর্ষণ বলকে ব্যাখ্যা করার জন্য একটি সূত্র। এই সূত্র অনুসারে, দুটি বস্তুর মধ্যেকার আকর্ষণ বল তাদের ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।

সূত্রটি নিম্নরূপ:

F = G * m1 * m2 / r^2

যেখানে:

  • F হলো আকর্ষণ বলের মান
  • G হলো মহাকর্ষীয় ধ্রুবক, যার মান 6.674 × 10^-11 N m^2 kg^-2
  • m1 হলো প্রথম বস্তুর ভর
  • m2 হলো দ্বিতীয় বস্তুর ভর
  • r হলো দুটি বস্তুর মধ্যবর্তী দূরত্ব

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র মহাবিশ্বের অনেক প্রাকৃতিক ঘটনার ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত হয়। যেমন, এই সূত্রের সাহায্যে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বল, সূর্যের চারপাশে গ্রহের কক্ষপথ, এবং ছায়াপথের গতিবিধি ব্যাখ্যা করা যায়।

আরো পড়ুনঃ  HSC তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) সৃজনশীল Question Solve ২০২৩

নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সূত্রটি শুধুমাত্র সেইসব বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যাদের মধ্যেকার দূরত্ব মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের ব্যস্তানুপাতিক দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি নয়। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে।

মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ এর মধ্যে পার্থক্য কি?

মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ এর মধ্যে পার্থক্য কি?

মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ দুটি ভিন্ন ধারণা। মহাকর্ষ হলো একটি মৌলিক বল যা দুটি বস্তুকে একে অপরের দিকে আকর্ষণ করে। অভিকর্ষ হলো একটি বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে এমন একটি বল।

মহাকর্ষের দুটি দিক রয়েছে:

  • অভ্যন্তরীণ মহাকর্ষ: দুটি বস্তু একে অপরের দিকে আকর্ষিত হয়।
  • বাহ্যিক মহাকর্ষ: একটি বস্তু অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে।

অভিকর্ষ হলো মহাকর্ষের একটি বিশেষ দিক যা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে পরিচালিত হয়। পৃথিবীর আকর্ষণীয় শক্তির কারণে, পৃথিবীর পৃষ্ঠের সমস্ত বস্তু পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয়। এই আকর্ষণীয় বলকে অভিকর্ষ বলে।

মহাকর্ষ ও অভিকর্ষের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ:

বৈশিষ্ট্য মহাকর্ষ অভিকর্ষ
প্রকৃতি মৌলিক বল মহাকর্ষের একটি বিশেষ দিক
দিকটি দুটি বস্তু একে অপরের দিকে আকর্ষিত হয়,
বা একটি বস্তু অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে
পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে
উদাহরণ পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ, গ্রহাণুপুঞ্জের মধ্যাকর্ষণ পৃথিবীর অভিকর্ষ,
মহাকাশযানের অভিকর্ষ
আরো পড়ুনঃ  সামান্তরিকের ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের সূত্র [Best Method]

উদাহরণস্বরূপ, পৃথিবীর আকর্ষণীয় শক্তির কারণে, পৃথিবীর পৃষ্ঠে থাকা একটি বল পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয়। এই বলকে অভিকর্ষ বলে। আবার, সূর্যের আকর্ষণীয় শক্তির কারণে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। এই বলকে মহাকর্ষ বলে।

মহাকর্ষ ধ্রুবক এর মান কত?

মহাকর্ষ ধ্রুবক এর মান কত?

মহাকর্ষ ধ্রুবক (G) এর মান হলো 6.6743 × 10^−11 মিটার^3 কেজি^−1 সেকেন্ড^−2। এটি একটি মৌলিক ধ্রুবক যা মহাবিশ্বের সমস্ত মহাকর্ষীয় ঘটনার জন্য দায়ী।

মহাকর্ষ ধ্রুবক একটি খুব ছোট সংখ্যা। এর অর্থ হলো যে দুটি বস্তুর মধ্যে মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বল খুব দুর্বল। তবে, বস্তুর ভর যত বেশি হয় এবং তাদের মধ্যকার দূরত্ব যত কম হয়, মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বল তত বেশি শক্তিশালী হয়।

মহাকর্ষ ধ্রুবক প্রথম 1798 সালে হেনরি ক্যাভেন্ডিশ দ্বারা পরিমাপ করা হয়েছিল। তিনি একটি টর্শন ব্যালেন্স ব্যবহার করেছিলেন যা দুটি ভারী ধাতব গোলকের মধ্যে মহাকর্ষীয় আকর্ষণ পরিমাপ করতে পারে।

মহাকর্ষ ধ্রুবক একটি মৌলিক ধ্রুবক, যার মানে এটি মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থার একটি বৈশিষ্ট্য। এটি আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মহাকর্ষীয় বিভব ঋণাত্মক কেন?

মহাকর্ষীয় বিভব ঋণাত্মক কেন?

নেতিবাচক চিহ্নটি নির্দেশ করে যে মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের মান অসীমে শূন্য। ক্ষেত্রটি অসীমের কাছে আসার সাথে সাথে সম্ভাব্য মান হ্রাস পায়, ঋণাত্মক হয়। ক্ষেত্রের ভিতরে, মহাকর্ষীয় সম্ভাবনা নেতিবাচক। কারণ কোনো বাহ্যিক শক্তি বা বল কাজ করে না, মাধ্যাকর্ষণ বল কাজটি করে।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের মানচিত্র ছবি hd

Leave a Comment