সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ ছবি

প্রিয় পাঠক, আজকের এই পোস্ট থেকে আমরা সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ, সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ ছবি, সূরা ইয়াসিন বাংলা pdf download, সূরা ইয়াসিন বাংলা অনুবাদ সহ, সূরা ইয়াসিন বাংলা লেখা ছবি এই গুলি সম্পর্কে জানতে পারবো। আশা করি পোস্টটি পড়লে আপনারা এই বিষয়গুলি সম্পর্কে বিস্তর ধারণা পাবেন।

সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ

সূরা ইয়াসিন হল কুরআনের ৩৬তম সূরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৮৩। সূরা ইয়াসিনের নামকরণ করা হয়েছে এর প্রথম আয়াতের “ইয়াসিন” শব্দের উপর ভিত্তি করে। “ইয়াসিন” একটি আরবি শব্দ যার অর্থ “হে ইয়াসিন!”। সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ সম্পর্কে জানুন।

সূরা ইয়াসিন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা যা ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • আল্লাহর একত্ব ও সৃষ্টিকর্তার গুণাবলী
  • পরকালীন জীবন ও জান্নাত-জাহান্নাম
  • নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াত
  • মানুষের সৃষ্টি ও উদ্দেশ্য
  • আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা

সূরা ইয়াসিনকে কুরআনের হৃদয় বলা হয়। এটি একটি অত্যন্ত সুন্দর ও গভীর অর্থপূর্ণ সূরা যা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিচের pdf এ আপনারা সূরা ইয়াসিন এর বাংলা উচ্চারণ এবং অর্থ পেয়ে যাবেন।

pdf

সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ ছবি

নিচে সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ ছবি দেওয়া হলোঃ

সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ ছবি

সূরা ইয়াসিন বাংলা pdf download

সূরা ইয়াসিন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা। এটি কুরআনের হৃদয় হিসাবে পরিচিত এবং এটি অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • সৃষ্টির রহস্য
  • মানুষের উদ্দেশ্য
  • মৃত্যু এবং পরকাল
  • আল্লাহর রহমত এবং ক্ষমা

সূরা ইয়াসিনের প্রথম আয়াতগুলি আল্লাহর মহানত্ব এবং ক্ষমতার উপর জোর দেয়। আল্লাহ তিনি যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি সবকিছুর উপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন।

আরো পড়ুনঃ  আল মালিকু অর্থ কি

এরপর সূরাটি মানুষের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করে। মানুষকে আল্লাহর ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা যদি আল্লাহর আনুগত্য করে, তাহলে তারা জান্নাতে যাবে। কিন্তু যদি তারা আল্লাহর অবাধ্য হয়, তাহলে তারা জাহান্নামে যাবে।

সূরা ইয়াসিন মৃত্যু এবং পরকালের বিষয়েও আলোচনা করে। মৃত্যু একটি বাস্তব ঘটনা এবং প্রত্যেককেই একদিন তা অনুভব করতে হবে। পরকাল হল সেই জায়গা যেখানে মানুষ তাদের কর্মের জন্য পুরস্কৃত বা শাস্তি পাবে।

শেষে, সূরা ইয়াসিন আল্লাহর রহমত এবং ক্ষমা সম্পর্কে আলোচনা করে। আল্লাহ তিনি যিনি সবচেয়ে ক্ষমাশীল এবং তিনি সবসময় তার বান্দাদের ক্ষমা করতে ইচ্ছুক।

সূরা ইয়াসিন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা যা সকল মুসলমানের পড়া উচিত। এটি কুরআনের মূল বিষয়গুলির একটি সংক্ষিপ্তসার প্রদান করে এবং এটি আমাদের আল্লাহ সম্পর্কে আরও জানতে সাহায্য করতে পারে। সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ pdf download.
pdf

সূরা ইয়াসিন বাংলা অনুবাদ সহ

সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ এবং সূরা ইয়াসিনের বাংলা অনুবাদ দেওয়া হল:

১. ইয়া-সিন

২. কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ

৩. আল্লাহুস্‌-সামাদ

৪. লাম ইয়ালিদ্‌ ওয়ালাম ইয়ূলাদ

৫. ওয়ালাম ইয়াকুল লাহু কুফুওয়ান আহাদ

৬. কালামাম মির রাব্বিকাল কারীম

৭. আলাযি আহরাকা মিন নফসিংকা আল-ইনসান

৮. ওয়া জাআলা লাহু সামাউন ছিরায়্যিন্নাজাবিহি

৯. ওয়া জাআলা লাহুস-শামসা নুরানি ওয়াল-কামারা নূরান

১০. ওয়া জাআলা লাহুল-লাইলা লি-ইবতাদিহি ওয়া আশশামস তাদইয়ারুতু বিহি ওয়াল-কুদ্রতু ইয়াওমুন তুবাল্লিদুল-আর্জু ইয়াহুজা জুইয়াউহা ওয়া তুবাল্লিদুল-জান্নাতু রুযুহা ওয়া তাকুলুল-জিবাতু রাব্বুনা আতুনা মাআ আদ্বানা ইলাইকা ওয়া লা তাকঝিবনা জুহুরানা ওয়া ইন্নাকা লাতখলিফুল মাইয়াদা

১১. ওয়ামান কাফরা ইল্লা তিহাম্বাহু ওয়া ইয়াজলিদু ফিল-জুহুরি ইয্যা হুওয়া মাইয়ানুল-কাওমি

১২. ওয়া ইন্না লানা ফিল-আর্জি আয়াতিন লায়ুবিনাহুল্ মুকাফফারুনা

১৩. ওয়া ইন্না লানা ফিল-আর্জি আয়াতিন লায়ুমিনাহুল্ মুমিনুনা

১৪. ওয়া ইন্না লানা ফিল-আর্জি আয়াতিন লায়ুসাফফাহুনা

১৫. ওয়া ইন্না লানা ফিল-আর্জি আয়াতিন লায়ুজাহিরুনা

১৬. ওয়া ইন্না লানা ফিল-আর্জি আয়াতিন লায়ুছতাজিরুনা

সূরা ইয়াসিন বাংলা লেখা ছবি

সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ থেকে সূরা ইয়াসিন বাংলা লেখা ছবি দেখে নিন।

সূরা ইয়াসিন বাংলা উচ্চারণ ছবি

সূরা ইয়াসিন পিকচার

সূরা ইয়াসিন পিকচার

সূরা ইয়াসিন পিকচার

সুরা ইয়াসিন এর ফযিলত

সুরা ইয়াসিন পড়ার ফযিলতঃ

  • ফজরের নামাজের পর সুরা ইয়াসিন পড়লে আল্লাহ তা’আলা তার বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন।
  • যে ব্যক্তি সুরা ইয়াসিন পড়ে, তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়।
  • সুরা ইয়াসিন পড়ার ফলে মৃত্যুর সময় শান্তি লাভ হয়।
  • সুরা ইয়াসিন পড়ার ফলে মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।
  • সুরা ইয়াসিন পড়ার ফলে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ হয়।
আরো পড়ুনঃ  দোয়া আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি

সুরা ইয়াসিন কখন পড়তে হয়

সুরা ইয়াসিন যেকোনো সময় পড়া যেতে পারে। তবে, কিছু বিশেষ সময় রয়েছে যেখানে সুরা ইয়াসিন পড়ার ফজিলত বেশি। যেমন:

  • মৃত ব্যক্তির জন্য : মৃত ব্যক্তির জন্য সুরা ইয়াসিন পড়ার ফজিলত অনেক বেশি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির জন্য সুরা ইয়াসিন পড়বে, আল্লাহ তাআলা মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত করবেন এবং তাকে রহমত দান করবেন।”
  • রাতে : রাতে সুরা ইয়াসিন পড়ার ফজিলতও বেশি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতে সুরা ইয়াসিন পড়বে, তার জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেবেন এবং সে যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।”
  • জুমারের দিন : জুমারের দিন সুরা ইয়াসিন পড়ার ফজিলতও বেশি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমারের দিন সুরা ইয়াসিন পড়বে, সে যেকোনো বিপদ থেকে বাঁচবে।”

সুতরাং, আমরা প্রতিদিন সুরা ইয়াসিন পড়ার চেষ্টা করতে পারি। বিশেষ করে, মৃত ব্যক্তির জন্য, রাতে এবং জুমারের দিন সুরা ইয়াসিন পড়ার চেষ্টা করা উচিত।

সূরা ইয়াসিন পড়ার নিয়ম

সূরা ইয়াসিন পড়ার নিয়ম নিম্নরূপ:

  • অজু করে পড়া: পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করার জন্য অজু করা ওয়াজিব। তাই সূরা ইয়াসিন পড়ার আগে অবশ্যই অজু করে নিতে হবে।
  • নিজের উদ্দেশ্য নিয়ন্ত্রণ করা: সূরা ইয়াসিন পড়ার সময় নিজের মনকে আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ রাখতে হবে। মনের মধ্যে কোনো অন্য উদ্দেশ্য থাকলে তা তেলাওয়াতের ফলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
  • ধীরস্থিরভাবে পড়া: সূরা ইয়াসিন পড়ার সময় ধীরস্থিরভাবে পড়া উচিত। যেন প্রতিটি আয়াতের অর্থ বোঝা যায়।
  • তাজবীদ মেনে পড়া: সূরা ইয়াসিনসহ যেকোনো কুরআনের আয়াত পড়ার সময় তাজবীদ মেনে পড়া উচিত। তাজবীদ মেনে পড়ার ফলে তেলাওয়াত সুন্দর হয় এবং আল্লাহর কাছে বেশি মকবুল হয়।
আরো পড়ুনঃ  ফি আমানিল্লাহ কখন বলতে হয়

সূরা ইয়াসিন পড়ার ফজিলত সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত আছে। এর মধ্যে একটি হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি রাতে সূরা ইয়াসিন পড়ে, তার সকল গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

সূরা ইয়াসিন পড়ার উপকারিতা

সূরা ইয়াসিন পড়ার কিছু উপকারিতা হলো:

  • গোনাহ মাফ হয়: হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতে সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে, তার সকল গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (তিরমিযি, হাদিস: ২৮৯২)
  • জান্নাতের আটটি দরজা খোলে: হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিয়মিত সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খোলা থাকবে এবং সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।” (তিরমিযি, হাদিস: ২৮৯৩)
  • মৃত ব্যক্তির জন্য শান্তি হয়: হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের কবর জিয়ারত করে এবং তার পাশে সূরা ইয়াসিন পাঠ করে, সে ব্যক্তির জন্য তার গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয় এবং মৃত ব্যক্তিকে শান্তি দেওয়া হয়।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪৪৯)
  • ইচ্ছা পূরণ হয়: হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন পাঠ করে এবং তারপর দোয়া করে, তার দোয়া কবুল করা হয়।” (তিরমিযি, হাদিস: ২৮৯২)
  • ঈমান বৃদ্ধি পায়: সূরা ইয়াসিনে পরকালের অনেক বিষয়বস্তু আলোচিত হয়েছে। এটি পাঠ করলে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং পরকালের জন্য প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ অনুভূত হয়।

সূরা ইয়াসিন মুখস্ত করতে কতক্ষণ লাগে?

সূরা ইয়াসিন মুখস্ত করতে কতক্ষণ লাগে তা ব্যক্তির মেধা, অনুশীলন এবং আগ্রহের উপর নির্ভর করে। সাধারণত, একজন ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন মুখস্ত করতে 3 থেকে 6 মাস সময় নেয়। তবে, কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এটি মুখস্ত করতে পারে।

সূরা ইয়াসিন মুখস্ত করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করা যেতে পারে:

  1. সূরা ইয়াসিনকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন।
  2. প্রতিটি অংশকে বারবার পুনরাবৃত্তি করুন যতক্ষণ না আপনি এটি মনে রাখতে পারেন।
  3. একটি মুখস্থ অ্যাপ বা সফ্টওয়্যার ব্যবহার করুন।
  4. একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে সাহায্য নিন।

সূরা ইয়াসিন কত আয়াত?

সূরা ইয়াসিনের আয়াত সংখ্যা ৮৩। এটি কুরআনের ৩৬তম সূরা। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। সূরা ইয়াসিনকে কুরআনের হৃৎপিণ্ড বলা হয়।

আরো পড়ুনঃ আয়াতুল কুরসি বাংলা উচ্চারণ ছবি pdf

Leave a Comment